চেতনার দর্পণ | ১লা ফেব্রুয়ারি ২০০৬ ইং
কবিতা সময়ের
অতীতের কবিতায় আঁকা ছিল অবিমিশ্র বাস্তবতা,
টুকরো শত হাড়-গোড় কুড়িয়ে লেখা সেই পংক্তিকথা।
বীরত্বে গাঁথা এই ভূখণ্ড, আর পতাকার স্বাধীনতা,
ইতিহাসের থলে ভরা মা-বাবা, ভাই-বোনের খুলির ব্যথা।
সেই কবিতার পাতায় ছিল সহস্র আঁচড়-রেখা,
জল-জমি-জনের আকুতি, বৃক্ষ-গুল্মের নীরব দেখা।
বঙ্গভবন থেকে কুঁড়েঘর, রাষ্ট্রপতি থেকে ভিখারি—
টেকনাফ হতে তেঁতুলিয়া, মেহেরপুর থেকে কর্ণফুলী।
কলম ভেঙেছি, লাঠির ঘা খেয়েছি বারুদের গন্ধমাখা পথে,
উড়িয়েছি ধুলো, ছড়িয়ে দিয়েছি অগণিত দোয়াত-কালির রথে।
একখানি কবিতা লিখতে এই ভূখণ্ডের দৈন্যতা নিয়ে,
তালি দিয়ে এই অসময়ে লিখেছি গীতালি বেদনা দিয়ে।
কত নীতিকথা, চেতনা-প্রথা রাজনীতিকের মুখে ফোটে—
খাদ্য, বস্ত্র, বাসস্থান, চিকিৎসা, শিক্ষা—নিত্য চাহিদা প্রকটে।
কথার ফুলঝুরি খেয়ে তলাবিহীন ঝুড়ি হাতে নিয়ে,
অদম্য উৎসাহে রাজপথ থেকে মেঠোপথে চলে বয়ে।
যার হাতে প্রয়োজনের চাবি নেই—ফলহীন তার কাছে যোগানের ভাষা,
সমাধানের হাওয়া পৌঁছায় না—নিভে যায় সব আশা।
দুর্নীতির আদরে মোড়া রাজনৈতিক মিথ্যা বৃক্ষের ডালে,
ফুটে আছে অগণিত ভণ্ড ফুল—ভিতরে শূন্যতার জ্বালে।
সমাজনীতি–অর্থনীতি ও ধর্মের দাবানলে দগ্ধ দেহ,
সংস্কৃতির নামে ভণ্ড চিকিৎসা যেন না মানে কেহ।
— কাজী আব্দুস সালাম