২১. কবিতা | ০২/১০/১৯৭৫ ইং
সুন্দরী ধরা
হায়রে মাতঃ ইহলৌকিক সুন্দরী ধরা,
তোমার মাঝে কত শত বিরাজিছে—
তোমার আমার নিত্য-নব্য প্রেম-সৌন্দর্য-ধারা।
তোমার মাঝে শূন্য-দৈন্য-শুষ্ক যারা,
রঙের ছটায় তারাও করে আপন হারা;
তারই মাঝে খুঁজে পাই দৃপ্ত শত সৌন্দর্য ভরা।
ছোট্ট শিশু যেদিন ছিল তপ্ত-ক্রোড়ে,
মায়ের দুগ্ধ পিয়ে পিয়ে সময়ে বেড়ে—
একদিন সে ঝেঁপে ওঠে সৌন্দর্যের মশাল ধরে।
এমনি করে তোমার মাঝে প্রতিটি জিনিস,
আপন আপন পিয়ে ঊর্ধ্বে ওঠে বয়ে—
সৌন্দর্যের রশ্মিতে ছড়ায় তব নিজ নিজ আমেজ।
বিশ্ব-তারকা প্রেম-সাকী সৌন্দর্যের নির্ঝরা,
তোমার মাঝে বয়ে গেল দ্বীন তরণী;
তারই প্রেম সৌন্দর্য পড়ে শত কীট পাগল পারা।
তোমার প্রথম জন্ম-পট হতে আজি,
কত প্রেমিক দেউল ছন্নছাড়া আত্মহারা;
চলছে বয়ে হৃদয় তরী, সৌন্দর্যের রঙে সাজি।
তোমার জাতি-ফুলের নারী মানী ধ্যানী,
যুগে যুগে ভ্রমরে প্রিয় সুরে লহে টানি;
কী চেয়ে তোমার বুকে নতশিরে সৌন্দর্য ধ্যানী।
জনম জনম হতে, অনন্ত যুগ যুগ পরে,
ঝরছে নির্ঝরে, তোমার প্রতি বস্তু তরে;
অশান্ত শত শ্রান্ত দুরন্ত নিরন্তর সৌন্দর্যের করভারে।
প্রেম-হৃদয়-মন্দিরে তোমার আমার মাঝে,
একটি সুর একান্ত হয়ে বারে বারে টানে;
ধ্যানে আসে তা সেই প্রেম-বেশ সৌন্দর্যে সেজে।
হে মাতঃ বিশ্ব-ময়ী, সার্বিক প্রেমেশ্বরী,
তোমার মাঝে সর্ব কুল মাখলুকের তরী;
অবারিত ভাবনায় সদাই আমার মাঝে তোমায় স্মরি।
মম নির্ধারিত নশ্বর ধরায় নহে গর্ব করা,
শত চাওয়া তারই মাঝে কত পাওয়া—
যেন বিরাজিছে ক্ষুদ্র হয়ে স্বর্গের সৌন্দর্য-ধারা।
— কে. এ. সালাম