১১. কবিতা | ১০/০৯/১৯৭৫ ইং
বসুমতী
হে মাতঃ বসুমতী,
বিজনে বসে ভাবি
জীবন-যুদ্ধে হারি বা জিতি।
আজি গাব কোন গীতি,
নির্জনে বসে ভাবি
প্রাণে চাই তোমার প্রীতি।
অতীত হতে নিতি নিতি
গাহিতেছি প্রেম গীতি,
ছাপিতেছি জীবন স্মৃতি।
তারই মাঝে সুর দিয়ে,
তোমাকে চাই পেতে
এসো প্রিয়ার স্মৃতি নিয়ে।
দাও মধুছন্দ দিয়ে ভরে,
ঝঙ্কার মন বীণার তারে
আপনার প্রিয় সুরে সুরে।
আমি তব যাই গেয়ে,
এ দেউল মন নিয়ে
বীণার সুর-তরণী বেয়ে।
হে মাতঃ ধরণী,
তোমার এই সন্তানে
দাও তব মুখের বাণী।
বাণী-মন্ত্র বীণা-তন্ত্র দিয়ে,
বেঁধে দাও মন-বীণাখানি
গুণ তন্ত্র-মন্ত্রে যাই গেয়ে।
হে মাতঃ বিশ্ব-রানী,
দাও তব বীণা-বাণী
বেয়ে যাই এ হৃদয় তরণী।
আমি যে মূর্খ, মাতা,
শিখিনি ও বীণা বাজনা
শিখেছি বিরহ-ব্যথা।
আজি মম হাত সাধাতে,
ভুল যদি হয় মাতঃ
সুধাইয়ে তুমি দাও তাতে।
তোমার এই ক্ষুদ্র প্রেমাস্পদ,
পথ যেন যায় না ভুলে
হটে না যেন পিছু।
নাও কোলে তুলে,
ভুলায়ে রেখো আপন করে
তব স্তন দিয়ে সর্বকালে।
হে প্রিয় বসুন্ধরে,
যত গাই এ গান
সর্বলোকে সর্বকালে সুরে সুরে।
ততই যেন বেড়ে চলে,
প্রাণের আবেগ-রেশ
ঝেরে ফেলি সর্ব মূলে।
তুমি পুঁথির বাণী,
অনন্তে লোক লোকান্তরে
ব্যাপ্ত করে দাও তাহা দানি।
হে মাতঃ এই শিশু-সন্তান,
চরণে অর্ঘ্য নাহি দিতে জানে
তবলে কি করবেন না কিছু তব দান?
হে মম জীবন দাতা,
শোন হে জগৎ মাতা
করে তুলে নাও এই জীর্ণ গাঁথা।
সুধাইয়ে দাও শুদ্ধ বাণী,
মোর সর্ব কবিতা মাঝে
দাও প্রেম-প্রতিভা দানি।
আমি যেন না হই ক্ষয়,
এই জীবন যুদ্ধে তোমায়
করতে পারি যেন সর্বজয়।
আমার যত কথা,
ব্যথা দিয়ে তা গাঁথা
তোমারই ধ্যানে হাত-সাধা।
তুমি অনন্ত সাধন ধন,
তুমি মম কাব্য রানী
উজাড় করেছ হৃদি-মন।
আর কী চাইব আমি,
যাহা কিছু চেয়েছি
সবই ওগো জান তুমি।
— কে. এ. সালাম