১০. কবিতা | ০৯/০৯/১৯৭৫ ইং (৩রা রমজান)
বনিতা
হে মম বনিতা
কত লিখব আর
বেদনা-ব্যথার কবিতা।
যত গাই এ গান
তত বিরহ বেসুর
হৃদয়ে জাগে অম্লান।
লিখব কবিতা গান
আরও নেব আঘাত
তিক্ত সাধনায় ভরি প্রাণ
আমি সাধনার সাবিত্রীকে
পাই কিবা না পেয়ে
তবু গাইব কবিতা লিখে।
চেতনার সর্ব সত্তাকে
আপন করে পেতে চাই
হৃদি-তটে শত ছবি এঁকে।
এ হৃদয়ের ক্ষুদ্র নীড়ে
এঁকেছি প্রাণ প্রিয়াকে
কেমনে ভুলি তারে।
ক্ষণে ক্ষণে সর্বক্ষণে
কণ্টক কুসুম হয়ে
ফুটে আছে এ প্রাণে।
ঝুলে আছে থরে বিথরে
সাজে ভাবী সর্ব সাজে
বাগ-বর্ণ-গন্ধ সমাহারে
কেমনে তারে ভুলি
যে দিয়েছিল প্রথম হাতে
ছবি আঁকার তুলি।
শুনিলে সেই মুখের বাণী
এ হৃদি মুষড়ে পড়ে
সর্বক্ষণে তারে ধিয়ানি।
কোথায় হে কাব্য রানী
মন আজ চাহে তোমায়
আঁখি-ডোরে লহো টানি।
হৃদয়ে প্রেম মৌনতায়
চাহি মনের গৌরীকাঁয়
চাহি বেদনা ব্যথায়।
হৃদয়ের চারটি কাঠি
তারই মাঝে তারে রাখি
পেতে চাই পরম খাঁটি।
সত্তার রূপক ধরে
অনন্ত সাধন ধ্যানে
পেতে চাই আপন করে।
ফুটে ঝরে যায় ফুল
চাই না এ অন্তরে তারে
চাহি সর্বময় ফোটা ফুল
আঘাত বিরহ-ব্যথাতে
যে পুষ্প যায় ঝরে
চাই না তাহে অন্তর সাথে।
যে ঝরে না আঘাতে
বিরহ ব্যথায় সে সতীকে
রাখব অন্তর পাতে।
ওগো প্রিয়ে সুধাও সুর
প্রেম সুধা শরাব মধুতে
ভরে দাও এ অন্তর।
দাও একটু মন-কায়
দাও ওই পীযূষ ভরা প্রাণ
তব চেয়ো না কামনায়।
সুধাও না অল্পক্ষণের বাণী
যদি না পার চলে যাও
হে দুর্বল কপট ধ্যায়ানি।
ওগো এসো অন্তরধ্বনি
পুনঃ সুধাও প্রেম-বাণী
হে অন্তর সাধনার রানী।
ভেসে যাই মহা অর্ণবগর্ভে
যেথা নেই ছল-কপট-ভেদ
আকুল-ব্যাকুলের ভিন্ন পর্বে।
এসো আজিকার এ লগনে
কর-পুটে লও তনু-মন
সাজো আজি বিধুর মতন
— কে. এ. সালাম