২১. কবিতা | ২২/০৯/১৯৭৬ ইং (২৭শে রমজান, শবে কদর)
দিলু
‘দিলু’ ভালোবেসে এতদিন তোমারে,
এবার ধরেছে মোরে ভিন্ন বিমারে।
জানিনা কখন আমি এই ভুবন হতে,
পাড়ি দেব সাকীর তরীতে চড়ে বিভুপথে।
তুমি তো আজও পূর্বসম আছ প্রিয়ে,
সুন্দর ধরার সুন্দরী একখান পুতুল হয়ে।
আর আমি সদাক্ষণ করছি ভেদ বমি,
বিতৃষ্ণাময় এ জীবন সাধে প্রভুর সোপানে নমি।
তুমি মহৎ উদয়ন শিহরণ সর্বক্ষণ মোর,
প্রভুর সোপান হতে ক্ষান্তক্ষণে তোমাতে বিভোর।
নিশির শিশির নহ, নহ তুমি প্রভাতে ঝরা হিজল,
দুপুরী-চাঁপা খরতা সহিষ্ণু তুমি চির-ফোটা ফুল।
এই হৃদয়ে ফুটে আছ চৈতী রোদে বিপুল -
যেমন ফোটে আগানে বাগানে আমের মুকুল।
প্রিয়ে, ঊষা স্বপ্নে দর্শে তোমারে প্রথম,
পেয়ে তব প্রেম-লিপি ভেঙেছিল ঘুম।
আঁধার মাঝে আলোক সঞ্চারে এসে তুমি,
তব কায়া-বাণী ফেলে জুড়ালে মম হৃদি-ভূমি।
যেমন আলো-ছায়ায় এলে তেমনি চলে গেলে,
শুধু দণ্ডখানি ভুলায়ে কপট-প্রেমে মোরে কাঁদালে।
শিমুল বৃক্ষ হয়ে গজালে আমার পাশে,
আমি বনলতা হঠাৎ জড়িয়ে ধরলাম আবেশে।
তব গাত্রে কণ্টক ছিল তাহা বুঝিনি তখন,
আজ বুঝেছি শিমুল তব কাঁটায় কত বড় দহন।
তবু প্রিয়ে প্রথম কাছে পেয়ে ধরেছি তোমায়,
তখন তো ছিলে কত বিশেষ অশেষ আরাম-ময়।
যবে বয়স বেড়ে উঁচু হতে থাকলে অহো-নিশি-দিশি,
ভয় বেড়ে চলে দেখে তব কণ্ট-বক্ষ-কুন্তল বেশি।
না জানি কী তব মতি-গতি হবে তখনি,
অন্তরে মম বিধল যে তব সুন্দরী কণ্টক একখানি।
অভাবনীয় ছিল মোর তব সেই আচার,
আজও সদা সর্বক্ষণে দংশায় কম্পে সে অবিচার।
সুখী তুমি, সুখী আজ তব ভূমি হলো,
আমার ভূমি-তটে আঁধার ছায়া ঘনিয়ে রইল।
যাক প্রিয়ে! অতীতকে দর্শিয়ে দ্যুলোচনে,
তাকাবো না আর তব পানে এই পোড়া জীবনে।
আজ পুড়ে নিভে ডুবে গেছি তব ভঙ্গ-কূলে,
চির-চোখে তাকিয়ে তব কায়ে কেঁদেছি অকুল-রোলে।
মহা-শান্তি মহা-সাধ প্রিয়ে ভুগেছি আমি একা,
যেমন শান্তিটি পেয়েছ তুমি লয়ে তব নব-সখা।
সত্য যে ইহা জগৎ মাঝে বুঝে নিকৃষ্ট নরাধমে,
হাত কেটে দিলে রক্ত না পানি কে বাহিরে প্রথমে?
না কেটে হস্ত না কেটে অঙ্গ ঝরছে যার জল-রক্ত,
এই পরাভব মাঝে তার সাজে কজন মিলে শক্তভক্ত?
খুঁজিলে পাগল অলি-গলি রাজপথে মিলে বহুল,
খুঁজিলে ধ্যানী-দেউল যথা-তথা জমে না মশগুল।
প্রিয়ে, মম বিদায়ের পূর্ব-ক্ষণে এই ধরাধরে -
ক্ষণেক ভিড়ায়ে এই ভাঙ্গা তরী গেয়েছি মিলাদ তব তরে।
যত দিয়েছিলে আর দিয়েছিলাম ভালোবাসা যদিও মিছামিছি,
একবার মহাঘুমের কালে কি স্বপ্ন মাঝে বসবে পাশাপাশি?
— কে এ সালাম