ইতিহাসের মহাকাব্য | ১৫/০৪/২০০৬ ইং

বাংলাদেশ: একটি কবিতার নাম

১৯৪৭ থেকে ১৯৫২—
একটি কবিতার শুরু,
রাষ্ট্রভাষার দাবিতে
সোচ্চার ছাত্রজনতার রণধ্বনি।
গুলির শব্দে রক্তরাঙা আকাশ,
ভাষাশহীদের অমর উচ্চারণ—
সে কবিতার নাম
“একুশে ফেব্রুয়ারি”
১৯৫২ থেকে ১৯৬৯—
বাঙালির জাগরণের দিনমান,
অধিকার আদায়ের সংগ্রামে
“ছয় দফা”—জয়ের গান।
ক্ষমতার বিরুদ্ধে আন্দোলনে
জেগে ওঠে নতুন প্রজন্ম,
১৯৭০-এর অবাধ সাধারণ নির্বাচন—
ঐতিহাসিক এক অনুরণন।
নির্বাচনে বিজয়ী বাঙালির ঐক্য,
তবু নির্মম প্রহসনে
হস্তান্তর হলো না রাষ্ট্রক্ষমতা।
ইয়াহিয়া-ভুট্টোর চক্রান্তের কাহিনি,
প্রযোজনায় পাকিস্তানি সেনা,
টিক্কা বাহিনীর রক্তাক্ত মঞ্চায়ন।
বাঙালির অনন্তকালের হৃদয়ব্যথা—
৭ মার্চের সেই অগ্নিবাণী,
একটি কবিতা—
“স্বাধীনতা”
১৯৭১—গৌরবের বিজয়গাঁথা,
অগণিত স্মৃতি, অশ্রু আর অগ্নিকথা।
রক্তের স্রোত নেমে এলো পথে,
মারল, ধরল, যাকে যেমন পেলে।
ঐতিহাসিক সেই অলিখিত ফরমান—
“ঘরে আছে কি হিন্দু, কি মুসলমান?”
শুধু মাটি থাকবে—পূর্ব পাকিস্তানের সম্পদ হবে খান;
২৫ মার্চের সেই গণহত্যা—কবিতা “কালরাত্রি”
রক্তে রঞ্জিত হলো নিরস্ত্র নিরপরাধ,
সহস্র বাঙালি রাজপথ থেকে
ছড়িয়ে পড়ল জনপদে।
স্বাধিকার সংগ্রামের রণাঙ্গনে
মুক্তির শপথ ছিল অবিচল;
“জয় বাংলা, জয় বঙ্গবন্ধু”
একা নয়, ছিল একাত্মতার স্লোগান।
১৯৭১—
নয় মাস নয় দিনের অগ্নিপরীক্ষা শেষে
জন্ম নিল আরেক কবিতা—
তার নাম “বিজয় দিবস”
— কাজী আব্দুস সালাম