কবিতা | ১৭/০৪/২০০৬ ইং
হৃদয় মাঝে
আমার হৃদয় মাঝে আগুন,
দাউ দাউ করে জ্বলছে।
চেষ্টা করছি নেভাতে, কিন্তু পারছি না।
হৃদয় পুড়ে ছারখার হয়ে যাচ্ছে—
সমাজের আগুন, অর্থনীতির আগুন,
ধর্ম ও সংস্কৃতির আগুন।
এত আগুন! এই আগুন নেভানোর
পদ্ধতি জানা ছিল অতীতে,
কিন্তু এখন পারছি না, সেই শক্তির
সার্বিক কর্মসূচি আজ আর নেই;
আজি তা বিদূরিত ও পরাহত।
তাপে তাপে শুকিয়ে শুকিয়ে,
অঙ্গার করে দিয়েছে আমায়।
দলনে আজ নিঃস্ব হয়ে গেছি,
কাঁদছি কিন্তু জল ঝরছে না; সে তো শুকিয়ে
গেছে অনেক আগে, পোড়া শুরুর কিছু পরেই।
এখন চৈত্র মাসের পত্রহীন বিবর্ণ,
শুকনো শক্ত শিমুল গাছটির মতো—
বেঁচে আছি সটান দাঁড়িয়ে।
অনেক যুদ্ধ করেছি, থেমে গেছি আজ,
অনেক অবহেলা আর না-বলা কারণে।
প্রথম যুদ্ধে পেয়েছি ভূখণ্ড আর পতাকা;
দ্বিতীয় যুদ্ধে আর্থ-সামাজিক ব্যবস্থা
ঢেলে সাজাতে, সার্বিক গ্রাম উন্নয়ন কর্মসূচি
নিয়ে নেমেছিলাম গ্রামে ও রাজপথে।
বঙ্গভবন হতে কুঁড়েঘর—
অনেক দূর এগিয়েছিল দেশ, তাতে
একটি সমৃদ্ধ কাঠামো প্রতিষ্ঠা লাভ করেছিল;
বাস্তব প্রতিফলন ঘটতে শুরু করেছিল মাত্র।
অতঃপর হঠাৎ একদিন রাতে,
সেনাপতিকে মেরে ফেলা হলো।
বিচ্ছিন্ন ও বিপন্ন হয়ে একাকী পথ চলছি,
সম্পূর্ণ একা— এক ত্যাগী সৈনিক।
পুনরায় সংগঠিত হতে,
এক নতুন সেনাপতি চাই।
এক অনন্য সংগঠন চাই—
নিবেদিতপ্রাণ কর্মীদের সমবায়ে—
তৃতীয় যুদ্ধের তরে।
আপন মাটিতে, খাঁটি উপায়ে
এই আগুন নেভাতে পারে—
একমাত্র রাজনীতি ও রাজনৈতিক
ব্যবহারিক আদর্শ পদ্ধতি।
এই তাপ-দগ্ধ শুষ্ক পোড়া গন্ধ
শুঁকে শুঁকে জীবদ্দশায় দেখে যেতে চাই—
সমাজনীতি, অর্থনীতি, ধর্ম ও সংস্কৃতির ভিত্তিতে
প্রতিষ্ঠা পেয়েছে স্বচ্ছ রাজনীতি;
আমার এই সোনার বাংলাদেশে।
— কাজী আব্দুস সালাম