নিশি এলে
নিশি এলে আমি যেয়ে,
যেতাম চুপে তোমার ঘরে;
ভূগোল বই পড়ার ছলে,
হাতে তুলে নিতে সাবরে।
যেতাম চুপে তোমার ঘরে;
ভূগোল বই পড়ার ছলে,
হাতে তুলে নিতে সাবরে।
এমনি সেই পড়ার ঠাটে,
কপাটে দিতাম টোকা।
পড়া ছেড়ে দেখে শুনে,
দরজা কারিতে ফাঁকা।
কপাটে দিতাম টোকা।
পড়া ছেড়ে দেখে শুনে,
দরজা কারিতে ফাঁকা।
লাজে মিশ্রিত মৃদু হাসি
চোখে নীরব দীপ,
বাম নাকে ঝলমল করে
সুবর্ণ নথের দীপ্তি।
চোখে নীরব দীপ,
বাম নাকে ঝলমল করে
সুবর্ণ নথের দীপ্তি।
ললাট জুড়ে জ্বলে উঠত
ছোট্ট লাল সে টিপ,
সন্ধ্যার তারার মতো
আলো দিত স্নিগ্ধ স্নিপ।
ছোট্ট লাল সে টিপ,
সন্ধ্যার তারার মতো
আলো দিত স্নিগ্ধ স্নিপ।
চুপে চুপে কথা কহি
নিভৃত রাত্রি তলে,
অজানা সেই কিশোর প্রাণ
কম্পিত স্বপ্নজ্বলে।
নিভৃত রাত্রি তলে,
অজানা সেই কিশোর প্রাণ
কম্পিত স্বপ্নজ্বলে।
বিশ্ব ধরিত্রীর কোলে
মহাপ্রেম অর্ণব কূলে,
আমরা দু’জন হারাতাম
নক্ষত্রমাখা শূন্যতলে।
মহাপ্রেম অর্ণব কূলে,
আমরা দু’জন হারাতাম
নক্ষত্রমাখা শূন্যতলে।
নিশি শেষে প্রভাত এলে
ফিরে যেতাম ধীরে,
তবু তোমার স্মৃতির রেশ
থাকত বুকের নীড়ে।
ফিরে যেতাম ধীরে,
তবু তোমার স্মৃতির রেশ
থাকত বুকের নীড়ে।
আজও যখন নিশি নামে
মনে পড়ে সে দিন,
ভূগোল বইয়ের পাতায় লেখা
অমলিন সেই রঙিন।
মনে পড়ে সে দিন,
ভূগোল বইয়ের পাতায় লেখা
অমলিন সেই রঙিন।
পাণ্ডুলিপি পৃষ্ঠা ১৯
১১/০৮/১৯৭৫