১৮. কবিতা | ০১/১১/১৯৭৫ ইং
প্রেম হাসিয়া কহে
প্রেম হাসিয়া কহে ওরে ভালোবাসা,
সর্বনাশা কেন করিস মিছে আশা।
কোথায় দেবী কল্পনার অবগাহি,
শুধাইয়া দাও এবে তব ভার সহি।
অলৌকিক বিশ্ব-সৈকত হইতে,
সুধা-সরাবে ভরিয়া দাও আঘাতে।
দাও স্বর্গ-শিবিরের প্রেমৌদার্য আনিয়া,
ব্যথার তুলিতে যাই আঁচড় টানিয়া।
খুশি যদি হও আঁকি, ওগো হে দেবী,
সুন্দর বেশে হৃদয়দেশে একখানি ছবি।
কোথায় মানসী তুমি ধরিত্রীর,
স্বর্গ-দ্বার চিরিয়া হও বাহির
তুমি কল্পনার গোপন সুন্দরী,
বাহিয়া আসো হৃদয়ে উর্বশী তরী
কামনার মোহনায় খেলিতেছে দাবা,
এইতো বিশ্বময়ীর উত্তম পূর্ববা।
কেন পড়ো ক্ষণে বিরহের গহনা,
ওগো বাসনাচেতা গৌরী শাহানা
বলো ওগো হে জীবন দিশারিণী,
কেন দান কৃষ্ণঘরে প্রেমঝলকানি।
সদাক্ষণে দেহ মন করে ঝিনঝিন,
ব্যাকুল বেসুরে বাজে দিশেহারা বীণ।
তুমি বিচিত্রা রূপিণী মোনালিসা,
দর্শনে মৌনী মাখা মঞ্জুল খাসা।
হে রূপভাষিণী দেবী চিত্রার্পিত কলা,
কী মোহে ডাকো খেলিতে এবেলা।
খেলাতো ভাঙিয়া দিল বিরহ আসিয়া,
আগর মাথায় অনল লইয়া চলে পুড়িয়া।
কাল যদি বহে এথা টিকে থাকে ভূমি,
গন্ধে বলিবে আমি কিসের আসামি।
জন আছে মন আছে তাই ভালোবাসে,
প্রেম আছে ব্যথা আছে তাই জগৎ হাসে।
কুহক আসিয়া মৌন বেশে ঝাণ্ডা উড়ায়,
বাঁধ ভাঙে বারী ঝরে কুহকের হয় ক্ষয়।
বিরহ বেদন জ্বলে দহন শিহরণ,
শেষে নির্মল সাধে সাজে মিলন তোরণ।।
— কে এ সালাম